ইশাআতুল উলুম মাদরাসা

নীতিমালা ও শৃঙ্খলা

আদর্শ দ্বীনি পরিবেশ রক্ষায় মাদরাসার নির্ধারিত নিয়মাবলী মেনে চলা আবশ্যক।

ছাত্রের অঙ্গীকারনামা — ১০ দফা

সর্বদা শর'ঈ হুকুম-আহকাম মেনে চলবো এবং সুন্নত ও আদাবের প্রতি যত্নবান থাকবো।
মাদরাসার সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলবো এবং উস্তাদগণের আদেশ-নিষেধ পালন করবো।
নিয়মিত দরসে উপস্থিত থাকবো, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকবো না।
মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাথে রাখবো না।
ধূমপান, মাদকদ্রব্য ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবো।
সহপাঠীদের সাথে সদাচরণ করবো এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকবো।
মাদরাসার সম্পত্তি ও আসবাবপত্রের যত্ন নেবো।
নির্ধারিত পোশাক পরিধান করবো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবো।
বিনা অনুমতিতে মাদরাসা ক্যাম্পাসের বাইরে যাবো না।
১০ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করবো না এবং সততার সাথে পরীক্ষা দেবো।

দারুল ইকামা (ছাত্রাবাস) নিয়মাবলী

দৈনিক সময়সূচী

  • ফজরের ৩০ মি. পূর্বে ঘুম থেকে ওঠা
  • ফজরের পর তিলাওয়াত/মুতালাআ
  • সকাল ৭:০০ টা সাথসবক শুনানো (৪০ মি.)
  • ৭:০০ - ৭:৩০ সকালের নাস্তা (৩০ মি.)
  • ৭:৩০ - ৮:৩০ খতমীদের আমুখতা (১ ঘ.)
  • ৮:৩০ - ৯:১৫ মাশকুর মজলিস (৪৫ মি.)
  • ৯:১৫ - ১১:৩০ ঘুম (২ ঘ. ১৫ মি.)
  • ১১:৩০ - ১২:১০ গোসল (৪০ মি.)

পোশাক ও আচরণ

পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায়।
হাফেজ হলে দৈনিক ৩ পারা তিলাওয়াত।
হাফেজ না হলে দৈনিক ১ পারা তিলাওয়াত।
টেলিভিশন ও ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ।
ইসলামী পোশাক ব্যতীত অন্য পোশাক পরা যাবে না।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখা, খাবারের পর থালা-বাসন ধোয়া এবং সাপ্তাহিক কাপড় ধোয়া নিশ্চিত করা। চুল ও নখ ছোট রাখা বাধ্যতামূলক।

ছুটি সংক্রান্ত নিয়ম — ৯ দফা

নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে।
অভিভাবক ছাড়া একা ছুটিতে যাওয়া যাবে না।
অতিরিক্ত ছুটি কাটলে জরিমানা দিতে হবে।
অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
দীর্ঘ ছুটির আবেদন ৭ দিন আগে করতে হবে।

কুতুবখানা (লাইব্রেরি) নিয়মাবলী

লাইব্রেরি কার্ড থাকতে হবে।
সর্বোচ্চ ২টি বই ইস্যু করা যাবে।
নির্ধারিত সময়ে বই ফেরত দিতে হবে।
বইয়ের ক্ষতি করলে মূল্য দিতে হবে।
লাইব্রেরিতে নীরবতা থাকতে হবে।
রেফারেন্স বই বাইরে নেওয়া নিষেধ।
বইয়ের পাতা ভাঁজ/দাগ দেওয়া যাবে না।

হিফজ বিভাগের সময়সূচী (নেহায়মুল আওকাত)

কার্যক্রমনির্ধারিত সময়
ফজরের পূর্বে জাগ্রত হওয়াজামাতের ১ ঘ. ১৫ মি. আগে
সবক শুনানোএশার পূর্বে ও ফজরের পূর্বে
সাথসবক ও আমুখতা ইয়াদসকাল ৭:০০ টা পর্যন্ত
সকালের নাস্তা০৭:০০ — ০৭:৩০
খতমী ও সবকী আমুখতা০৭:৩০ — ০৮:৩০
মাশকুর মজলিস০৮:৩০ — ০৯:১৫
বিশ্রাম ও ঘুম০৯:১৫ — ১১:৩০
গোসল ও পরিচ্ছন্নতা১১:৩০ — ১২:১০
চূড়ান্ত আমুখতা শুনানো১২:১০ — ০১:২০

পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন (সকল দফা)

পরীক্ষার ধরন ও সময়

বছরে ৫টি পরীক্ষা (২টি মাসিক ও ৩টি সাময়িক)।
সকাল ৮:০০ থেকে ১১:৩০ পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।
সাময়িক পরীক্ষার আগে ৭ দিন 'খেয়ার' (ছুটি) থাকবে।

হলের নিয়মাবলী

৩০ মিনিট আগে সতর্কীকরণ ঘন্টা বাজবে।
১০ মিনিট আগে অবশ্যই হলে প্রবেশ করতে হবে।
১৫ মিনিট পর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে।
বোর্ড ও কলম ছাড়া কিছু আনা নিষেধ।

সতর্কতা ও ফলাফল

লাল কলম বা পেন্সিল ব্যবহার নিষিদ্ধ।
অবৈধ পন্থা অবলম্বনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
৮০% (মুমতায) নম্বর প্রাপ্তদের বিশেষ পুরস্কার।
বেফাক মেধা তালিকায় উত্তীর্ণদের বিশেষ সম্মাননা।

পরীক্ষা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা (২৩ দফা)

পরীক্ষার ধরণ ও সময়সূচী
বছরে ২টি মাসিক ও ৩টি সাময়িকসহ মোট ৫টি পরীক্ষা হবে। (মাসিক পরীক্ষা খুসূসী থেকে শরহে বেকায়া পর্যন্ত)
১ম মাসিক পরীক্ষা কোরবানির আগে এবং ২য় মাসিক পরীক্ষা ২য় সাময়িকের মাঝে হবে।
প্রতিটি মাসিক পরীক্ষা ৩ দিনে নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার পূর্বে কোনো 'খেয়ার' (ছুটি) থাকবে না।
প্রত্যেক সাময়িক পরীক্ষায় খুসূসী থেকে তাকমীল পর্যন্ত সকল ছাত্রের ১০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
সাময়িক পরীক্ষায় খুসূসী থেকে মীযান পর্যন্ত ছাত্রদের উর্দূ ও বাংলা হাতের লেখার পরীক্ষা হবে।
সাময়িক পরীক্ষার আগে ৭ দিন এবং বার্ষিক পরীক্ষার আগে (বেফাক শেষে) ১০ দিন 'খেয়ার' থাকবে।
প্রতিদিন সকাল ৮:০০ টা থেকে ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা চলবে।
পরীক্ষার হলের নিয়মাবলী
কেন্দ্রে অবশ্যই প্রবেশপত্র সাথে রাখতে হবে। কলম ও বোর্ড ব্যতীত অন্য কিছু আনা নিষেধ।
৩০ মিনিট আগে সতর্কঘণ্টা বাজবে। ১০ মিনিট আগে হলে প্রবেশ করে খাতা সংগ্রহ করতে হবে।
১০ পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পর কোনো পরীক্ষার্থীর হলে প্রবেশ করার সুযোগ থাকবে না।
১১ প্রথমে খাতার প্রথম পৃষ্ঠা নিজ হাতে পূরণ করতে হবে, অতঃপর ২য় পৃষ্ঠা থেকে উত্তর লিখতে হবে।
১২ খাতা জমার সময় দস্তখতপত্রে নাম, কিতাবের নাম ও রোলনম্বর দেখে স্বাক্ষর করতে হবে।
১৩ প্রশ্নপত্র পাওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে বুঝে নিতে হবে। ১ ঘণ্টা পর কেউ প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়াবে না।
১৪ কোনো প্রয়োজন হলে নিজ স্থানে দাঁড়াবে। কোনো প্রকার শব্দ করা বা স্থান ত্যাগ করা যাবে না।
১৫ কোনো পরীক্ষার্থী লাল কলম বা পেন্সিল ব্যবহার করতে পারবে না।
১৬ পরীক্ষার দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে উত্তরপত্র জমা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
সতর্কতা, ফলাফল ও পুরস্কার
১৭ কোনো প্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা বিহিতযোগ্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।
১৮ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে সতর্কঘণ্টা বাজবে। তখন মূল খাতার সাথে লুজ পেপার সংযুক্ত করতে হবে।
১৯ উপরোক্ত যেকোনো বিধি লঙ্ঘন করা হলে কর্তৃপক্ষ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।
২০ বার্ষিক পরীক্ষায় মূল কিতাবে ফেল করলে পরবর্তী বছর পুনরায় একই জামাতে পড়তে হবে।
২১ হিফজ, নাযেরা ও মক্তবে ৮০% নম্বর পেয়ে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানধারীদের বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।
২২ বেফাক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণদের মাদরাসার পক্ষ থেকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে।
২৩ নাযেরা ও মক্তব ভিত্তিক পরীক্ষায় মুমতায (৮০%) প্রাপ্ত ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানধারীদের পুরস্কৃত করা হবে।

অভিভাবকদের প্রতি দিকনির্দেশনা (১৭ দফা)

আপনার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আমলী জিন্দেগী গঠনে আমাদের সহযোগিতা করুন

বাড়িতে ছাত্রের দৈনন্দিন আমল

পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা।
হাফেজ হলে দৈনিক কমপক্ষে ৩ পারা তিলাওয়াত নিশ্চিত করা।
হাফেজ না হলে দৈনিক কমপক্ষে ১ পারা তিলাওয়াত করা।
মাদরাসার দৈনিক পিছনের পড়াগুলো বাসায় চর্চা করানো।
মা-বাবা ও মুরব্বিদের সাথে সদাচরণ করার তালীম দেওয়া।
টেলিভিশন দেখা এবং মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা।
ইসলামী পোশাক ব্যতীত ভিন্ন (বিজাতীয়) পোশাক না পরা।
অসৎ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে চলাফেরা থেকে সন্তানকে দূরে রাখা।

মাদরাসা ও অভিভাবকের দায়িত্ব

ছাত্রের আমল-আখলাকের প্রতি সার্বক্ষণিক বিশেষ খেয়াল রাখা।
১০ ছাত্রের কল্যাণে সর্বদা উস্তাদগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।
১১ মাসে কমপক্ষে একবার স্ব-শরীরে মাদরাসায় উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা।
১২ সমস্ত আর্থিক লেনদেন স্ব-হস্তে বা ব্যাংক পদ্ধতিতে পরিশোধ করা।
১৩ ছাত্র সম্পর্কে কোনো মতামত বা অভিযোগ থাকলে জিম্মাদার উস্তাদকে অবগত করা।
১৪ অনুমতি ছাড়া ছাত্র মাদরাসা থেকে চলে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
১৫ ছুটিতে যাতায়াতের সময় ছাত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা।

তারানা / মুনাজাত

اے خدائے پاک رحمان و رحیم

اے الالعالمین اے بے نیاز

تو ہی مطبود اور توہی مقصود ہے

تو کریم مطلق اور ہم ہیں گدا

ہم گنہگار اور تو غفار ہے

ہم ہیں ناچار اور تو ہے چارہ ساز

ہم ہیں بے کس اور تو بے کس نواز

تو وہ قادر ہے کہ جو چاہے کرے

جس کو چاہے دے جسے چاہے نہ دے

تو وہ داتا ہے کہ دینے کے لئے

در تری رحمت کے ہردم ہیں کھلے

تیرے در پر ہاتھ پھیلاتا ہے جو

پانی لیتا ہے وہ ہر مقصود کو

مانگنا ہم پر کیا ہے تو نے فرض

اور سکھا ہم کو دئے آداب عرض

مانگنے کا ڈھنگ بھی بتلا دیا

مانگنے کو भी ہمیں فرما دیا

بلکہ مضمون بھی ہر ایک درخواست کا

ہم کو یا رب تونے خود سکھلا دیا

ہر گھڑی دینے کو تو تیار ہے

جو نہ مانگے اس سے تو بیزار ہے

آپڑے اب تیرے در پر یا الہ

ہر طرف سے ہوکے ہم خوار و تباہ

گرچہ یا رب ہم سراپا ہیں برے

اب تو لیکن آپڑے در پر ترے

ہاتھ اٹھاتے شرم آتی ہے مگر

دل میں ہیں لاکھوں امیدیں جلوہ گر

تو غنی ہے اور ہم ہیں بے نوا

کون پوچھے گا ہمیں تیرے سوا

ہم ترا در چھوڑ کر جائیں کہاں

ہے تو ہی حاجت روائے دو جہاں

صدقہ پیغمبر کا ان کی آل کا

صدقہ اپنی عزت و اجلال کا

یہ مناجات اور دعا مقبول کر

اپنی رحمت ہم پہ اب مبذول کر